ছবি- নৌ মন্ত্রনালয়
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও সমুদ্রসংশ্লিষ্ট শিল্পে নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে নেদারল্যান্ডসের ১৪টি প্রতিষ্ঠান। সম্ভাব্য বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। ইতিমধ্যে তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত স্থাপনা, বন্দর এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প পরিদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাস ও নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি (আরভিও) যৌথভাবে এই বাণিজ্যিক সফরের আয়োজন করেছে।
সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের সমুদ্রসংশ্লিষ্ট শিল্পের সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা।
গত ১৩ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শ্যুর্ড শ্যুর্ডসমা আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক মিশনের উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইউরিস ভ্যান বোমেল ও দূতাবাসের উপপ্রধান ইয়ানা ভ্যান ডার লিন্ডেন উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন ডাচ প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং ঢাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিদর্শন করে। পরদিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড এবং সীতাকুণ্ডের পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করে।
এসব সফরে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রম, বন্দরসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেয় প্রতিনিধিদল। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সিবিশন (বিমক্স) ২০২৬-এ নেদারল্যান্ডস প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইউরিস ভ্যান বোমেল এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সেবা তুলে ধরছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ পাচ্ছে।
এ উপলক্ষে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ‘দ্য মেরিটাইম ফিউচার ইজ নাউ: দ্য নেদারল্যান্ডস অ্যাপ্রোচ টু নিউ অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সমুদ্র ও উপকূলবর্তী শিল্পে দেশটির দক্ষতা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রদর্শনীর নেদারল্যান্ডস প্যাভিলিয়নে ব্যবসায়িক আলোচনা ও বৈঠক চলবে।
বাংলাদেশের সমুদ্রশিল্পে ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা বিনিময় ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সফর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রস্তাব, অর্থের পরিমাণ বা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়নি।
ফলে এই উদ্যোগের বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী আলোচনা কতটা কার্যকর বাণিজ্যিক চুক্তি ও প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।















