প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু একই ধরনের দুটি প্রকল্পের নির্মাণব্যয়ে দেখা দিয়েছে বড় অসংগতি। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা স্থাপনে যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, সেখানে পটুয়াখালীর পায়রায় লাগবে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ পায়রায় ব্যয় প্রায় ৮৪ শতাংশ বেশি।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট এবং পায়রায় ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। মোট ১৩০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা স্থাপনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু পায়রার ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রেই ব্যয় হবে ৯৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বিপরীতে মাতারবাড়ীতে ১০ মেগাওয়াট বেশি সক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
অর্থাৎ পায়রায় উৎপাদনক্ষমতা মাতারবাড়ীর তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম হলেও মোট প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫৮ শতাংশ বেশি। বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যয়ের এমন পার্থক্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রকল্প প্রণয়ন ও ব্যয় নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে।
দুটি প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত জমি এবং পায়রায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে থাকা অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করা হবে। ফলে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় না থাকলেও কেন পায়রায় প্রতি মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপনে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ লাগছে, তা প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকল্প দুটির অর্থায়নেও বিদেশি ঋণের ওপর বড় নির্ভরতা রয়েছে। মোট ব্যয়ের ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা প্রায় ৮৪ দশমিক ৪২ শতাংশ বিদেশি ঋণ থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার দেবে ১৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৮৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে পায়রা প্রকল্পের ঋণদাতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্প দুটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এগুলো এখনো পরিকল্পনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাতারবাড়ীর ৭০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণ করবে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৬০৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) থেকে ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ মাতারবাড়ী প্রকল্পের প্রায় ৮৮ শতাংশ ব্যয় বিদেশি ঋণের মাধ্যমে নির্বাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে প্রায় ১৭০ একর জমিতে ৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব করেছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
দুটি প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পায়রার ৬০ মেগাওয়াট প্রকল্পে শুধু সৌর প্যানেল কেনার জন্য প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিপরীতে মাতারবাড়ীর ৭০ মেগাওয়াট প্রকল্পে সৌর মডিউল ও ইনভার্টার মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ মাতারবাড়ীর তুলনায় পায়রায় ১০ মেগাওয়াট কম উৎপাদনক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সৌর প্যানেল খাতেই ৭৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রয়েছে। তবে মাতারবাড়ীর হিসাবে মডিউল ও ইনভার্টার একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকায় দুই প্রকল্পের ব্যয়খাত সম্পূর্ণ সমতুল্য নয়।
পায়রা প্রকল্পে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের জন্য প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামে প্রায় ২৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ এই দুটি খাতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৭ কোটি টাকা, যা পায়রা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৯ শতাংশ।
অন্যদিকে মাতারবাড়ীতে ব্যালান্স অব প্ল্যান্ট বা বিওপি সরঞ্জামে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশে ৪১ কোটি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
পায়রায় ভূমি উন্নয়ন, সড়ক, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্মাণকালীন ঋণের সুদ বাবদ মাতারবাড়ীতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ধরা হলেও পায়রায় রাখা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
দুই প্রকল্পের ব্যয়ের এই পার্থক্য শুধু সৌর প্যানেলের দামে সীমাবদ্ধ নয়। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আনুষঙ্গিক অবকাঠামো, ঋণের সুদ এবং অন্যান্য নির্মাণব্যয় মিলিয়েও বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
মেগাওয়াটপ্রতি নির্মাণব্যয়

বেশি ব্যয়ের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য কর্মকর্তারাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, প্রকল্প দুটির ব্যয়ের পার্থক্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী ও পায়রা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বিভাজনে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তাঁর মতে, সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ ব্যয় কাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষ তথা বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ডে তৈরি হওয়া বাধ্যতামূলক। বিগত সরকারের আমলে তা না হওয়ায় লুন্ঠন কাঠামোগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে কাঠামো ভাঙ্গা হয়নি। আলোচ্য দৃষ্টান্ত তারই প্রমাণ।
মাতারবাড়ী প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগকে ব্যয় সাশ্রয়ের একটি সুবিধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত এলাকায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
সিপিজিসিবিএল জানিয়েছে, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ছাই বর্তমানে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ছাই সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান সুরক্ষাবাঁধ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কাছাকাছি বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো কাজে লাগানো যাবে।
পায়রায়ও নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আগে অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যেই প্রায় ১৭০ একর অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে।
মাতারবাড়ী প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপাতত ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই-বাছাই সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা যুক্ত করে নতুন প্রস্তাব তৈরি করতে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ইআইবির পরামর্শকেরা তা পর্যালোচনা করেছেন। এ কারণে বাস্তবায়নে বিলম্ব এড়াতে আপাতত ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা ছাড়া প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সিপিজিসিবিএল।
তবে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যালোকের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদনের ওঠানামা সামাল দিতে বিদ্যুৎব্যবস্থার অন্যান্য উৎস ও গ্রিড ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করতে হবে।
মাতারবাড়ী কেন্দ্রের সৌর প্যানেলের মোট সক্ষমতা হবে ৯০ দশমিক ৮১ মেগাওয়াট-পিক। অন্যদিকে বিকল্প প্রবাহে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা হবে ৭০ মেগাওয়াট। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটি থেকে বছরে গড়ে ১১ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
এই হিসাবে কেন্দ্রটির সম্ভাব্য বার্ষিক সক্ষমতা ব্যবহারহার দাঁড়ায় প্রায় ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে এটি প্রস্তাবিত উৎপাদনের ভিত্তিতে করা হিসাব; কেন্দ্র চালুর পর প্রকৃত উৎপাদন ভিন্ন হতে পারে।
প্রকল্প যাচাই কমিটি নির্মাণকাজের প্রকৌশল ঠিকাদার ও তদারকি পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া অনুমোদনের পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি অন্তত ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে পায়রা প্রকল্পটিকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ সম্মতি দিয়েছে। মাতারবাড়ী প্রকল্পের প্রস্তাবও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরুর সুপারিশসহ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী এক বছরের মধ্যে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। ভবনমালিকেরা প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই ছাদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট মডেলে ছাদভাড়াও পেতে পারেন।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় সৌরব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ বাড়াতে নেট মিটারিং নির্দেশিকা সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।















