ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি নির্মাণসহ নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী মারুবেনি

বিনিয়োগ

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪৭,১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৮,১২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি নির্মাণসহ নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী মারুবেনি

ছবি- বাণিজ্য মন্ত্রনালয়

বাংলাদেশে জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসহ একাধিক শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন বা সংযোজনের সম্ভাব্য কাঠামো, বিনিয়োগের পরিমাণ, কারখানা স্থাপনের স্থান কিংবা উৎপাদন শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। 

মারুবেনির বিনিয়োগ আগ্রহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সারশিল্প। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।

বিশেষ করে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ দেখছে মারুবেনি। প্রতিষ্ঠানটির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে তথ্যপ্রযুক্তিসেবা দিচ্ছেন।

এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য দূরবর্তী প্রযুক্তিসেবা দেওয়ার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ খাতে জাপানি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি বা এসএমআর প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। নতুন শিল্প স্থাপন ও বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিভিন্ন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা এবং বিনিয়োগকৃত মূলধন প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত অগ্রগতিও বৈঠকে আলোচিত হয়। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে এ ধরনের চুক্তির সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত পাটপণ্যের বাইরে উচ্চমূল্যের নতুন পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন ধরনের পণ্য তৈরির পাশাপাশি উন্নত বীজ উদ্ভাবন ও গবেষণা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো গেলে নতুন শিল্পপণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়।

সর্বশেষ