ডিএসজে কোলাজ
বিদেশগামী বাংলাদেশিদের কাছে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান একবারে সর্বোচ্চ তিন হাজার মার্কিন ডলার নগদ বিক্রি করতে পারবে। আর পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের জন্য নিতে পারবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। প্রতিটি লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন ব্যবস্থায় নিবন্ধন করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ থেকে ‘অনুমোদিত ডিলার, মানি চেঞ্জার ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সসংক্রান্ত সমন্বিত সার্কুলার’ জারি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, পরিচালনপদ্ধতি, লেনদেনের সীমা, প্রতিবেদন দাখিল ও নবায়নের শর্ত একত্র করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকেরা তাঁদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে মানি চেঞ্জার থেকে একবারে সর্বোচ্চ তিন হাজার মার্কিন ডলারের নোট ও কয়েন কিনতে পারবেন। অনুমোদিত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ অন্য অবাধে বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া যাবে। তবে গ্রাহকের অবশিষ্ট ভ্রমণ কোটার সীমা মেনে চলতে হবে।
২০০ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পর্যন্ত ছাড়ের ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট লাগবে। এর বেশি হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈধ ভিসাও দেখাতে হবে। বিদেশযাত্রার তারিখ, পাসপোর্ট ও পূর্ববর্তী বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের তথ্য যাচাই করতে হবে মানি চেঞ্জারকে।
পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ যা-ই হোক, সর্বোচ্চ ফি হবে ৩০০ টাকা। এই ফি প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। গ্রাহককে লিখিত রসিদ দেওয়ার পাশাপাশি আদায় করা ফির হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মানি চেঞ্জারের প্রতিটি গ্রাহক লেনদেন ‘অনলাইন মানি চেঞ্জার মনিটরিং সিস্টেমে’ নিবন্ধন করতে হবে। এতে প্রতিটি লেনদেনের জন্য পৃথক শনাক্তকরণ নম্বরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রামযুক্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র তৈরি হবে। সেটির মুদ্রিত কপি গ্রাহককে দিতে হবে।
এ ছাড়া প্রতি মাসের বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার বিবরণ পরবর্তী মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় হার কাউন্টারে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের কার্যক্রম শেষে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ২৫ হাজার ডলার বা সমপরিমাণের বেশি রাখা যাবে না। অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদিত ডিলারের কাছে ভাঙাতে অথবা নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে জমা দিতে হবে। ওই হিসাবে সর্বোচ্চ স্থিতি ৫০ হাজার ডলার এবং প্রতিষ্ঠানের হাতে বাংলাদেশি নগদ টাকার মজুত সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা রাখা যাবে।
লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও লেনদেনের ন্যূনতম শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বছরে অন্তত পাঁচ লাখ ডলার এবং অন্যান্য এলাকায় সাড়ে তিন লাখ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান নবায়নের অযোগ্য বিবেচিত হবে।
মানি চেঞ্জারের লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা। একক মালিকানা ও অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিট সম্পদ ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন অন্তত এক কোটি টাকা থাকতে হবে।
সমন্বিত নির্দেশনায় ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার শাখার লাইসেন্স আবেদনে আগের পাঁচ বছরের আমদানি, রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা কার্যক্রমের তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমিত মানি চেঞ্জার এবং অনুমোদিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ পরিশোধনাগারের কাঁচামাল আমদানিকারকদের জন্য পৃথক শর্ত রাখা হয়েছে।
স্বর্ণের আকরিক ও আংশিক পরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির অনুমোদন ফি ৩০ লাখ টাকা এবং মেয়াদ পাঁচ বছর। অন্যদিকে অনুমোদিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর; নবায়ন ফি দুই লাখ টাকা। স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিটি চালানের জন্য পৃথক পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারির ফলে এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। সার্কুলারটি জারির দিন থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। শর্ত লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহারের ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকবে।















