ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১২ ১৪৩৩

রয়্যালটি পাঠাতে আগাম অনুমোদন লাগবে না

করপোরেট

প্রকাশিত: ২০:১৯,৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৮,৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রয়্যালটি পাঠাতে আগাম অনুমোদন লাগবে না

হাইটেক পার্কে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশে অর্থ পরিশোধের পথ আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ নিজস্ব টাকা হিসাব থেকে বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে এসব প্রতিষ্ঠান। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) আগাম অনুমোদন নিতে হবে না।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক সার্কুলারে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব অর্থ পরিশোধের জন্য সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবে।

নতুন ব্যবস্থায় হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে দুটি সুযোগই থাকছে। নিজস্ব টাকা হিসাব থেকে নির্ধারিত ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর সুবিধাও বহাল থাকবে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় নেই—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এডি ব্যাংককে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা আয় থাকলে সেই অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি আগে বিবেচনায় নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হাইটেক পার্কে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সহজ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তির আওতায় নিয়মিত রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তার মতো ব্যয় মেটানোর ক্ষেত্রে এতে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

তবে এই সুবিধা সীমাহীন নয়। নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ বিদেশে পাঠাতে হলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

একইভাবে, রয়্যালটি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা ফি ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হবে। এ ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় না নিয়ে বিএইচটিপিএর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে হাইটেক পার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই বিদেশি প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা ও চুক্তিভিত্তিক সেবার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে বিদেশি অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হলে তাদের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় নির্বাহ এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে আগাম অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ায় অর্থ পরিশোধের সময় ও প্রক্রিয়া কম জটিল হবে। এতে হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা তৈরি হবে।

তবে একই সঙ্গে অনুমোদনের শর্ত বহাল রাখার মাধ্যমে বড় অঙ্কের বা নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের ওপর নিয়ন্ত্রণও ধরে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে একদিকে নিয়মিত ও সীমার মধ্যে বৈদেশিক ব্যয় পরিশোধ সহজ করা হয়েছে, অন্যদিকে বড় বা ব্যতিক্রমী লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় একটি বাস্তবিক সুবিধা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নির্ধারিত সীমার মধ্যে দ্রুত অর্থ পরিশোধ করতে পারবে।