ডিএসজে
অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিত রেখে তাঁকে একই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব ও ব্যয় পরিকল্পনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অর্থ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে তাঁর অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রেখে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য অর্থ বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট থেকে অর্থ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ছিলেন। নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে অর্থ বিভাগের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে তাঁর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ছে।
অর্থ বিভাগ সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, আর্থিক নীতি সমন্বয় এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আর্থিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক নীতিসংক্রান্ত আলোচনায়ও বিভাগটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়ের সমন্বয় সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে বর্তমান অর্থসচিবকে আরও এক বছরের জন্য দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি চলমান বাজেট বাস্তবায়ন, আর্থিক সংস্কার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।















