ঢাকা,  রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৯ ১৪৩৩

সরকারের টাকায় তুরাগ দূষণকারী ১৭৩ কারখানায় প্রকল্প

১৭৩ কারখানায় প্রতিটি স্টেশনে ব্যয় ৮৫ লাখ টাকা; নদীতে ৫৮টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ শনাক্ত, ৪১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ধার্য ৩ কোটি ২৪ লাখ

দেশ ও প্রবৃদ্ধি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১০,২৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:২৩,২৫ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের টাকায় তুরাগ দূষণকারী ১৭৩ কারখানায় প্রকল্প

প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)

তুরাগ নদীর দূষণকারী শিল্পকারখানা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আগেও অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। জরিমানা করেছে, কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তবু দূষণ বন্ধ হয়নি। এবার নদীতীরের ১৭৩টি কারখানায় অনলাইন নজরদারি স্টেশন বসাতে ১৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ের নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্টেশনের পেছনে গড় ব্যয় প্রায় ৮৫ লাখ ২২ হাজার টাকা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের নথি, নদীর পানির মান পরীক্ষার সরকারি প্রতিবেদন এবং দূষণবিরোধী অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুরাগের দূষণকারী প্রতিষ্ঠান ও বর্জ্য নিঃসরণের উৎস সম্পর্কে সরকারের কাছে আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য তথ্য রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি পর্যায়ের পর্যালোচনায় নদীতে ৫৮টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেই দূষণ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তুরাগ দূষণের দায়ে ৪১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে। আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ, বকেয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গড়ে ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে নতুন প্রকল্পে প্রতিটি অনলাইন নজরদারি স্টেশন স্থাপনে গড় ব্যয় প্রায় ৮৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দূষণের দায়ে প্রতিষ্ঠানপ্রতি গড়ে ধার্য ক্ষতিপূরণের প্রায় ১০ দশমিক ৮ গুণ অর্থ ব্যয় হবে একটি নজরদারি স্টেশন স্থাপনে।

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম: ইন্টিগ্রেটেড পলিউশন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম অব তুরাগ রিভার ইসিএ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন মাত্র ১০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য রোববারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলার কথা রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনার ব্যয়তালিকা অনুযায়ী, ১৭৩টি কারখানায় রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং স্টেশন স্থাপনে বরাদ্দ ১৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৮০ টাকার বেশি খরচ হবে এই নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

তবে স্টেশনপ্রতি কী ধরনের যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কী হবে, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের পৃথক ব্যয় কত এবং কেন প্রতিটি স্টেশনে গড়ে ৮৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হবে—এসবের বিস্তারিত বিভাজন সরবরাহ করা প্রকল্প নথিতে পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পে নদীদূষণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অন্তত ১০০টি সরাসরি অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যও রয়েছে।

তুরাগের পানিতে অক্সিজেন প্রায় শূন্য

তুরাগ নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরীক্ষায় জৈব ও রাসায়নিক দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় তুরাগসংলগ্ন জলাশয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০২১ সালের পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরাগ ব্রিজ, আশুলিয়া, কালিয়াকৈর, ভাওয়াল ও নামাবাজারের কয়েকটি নমুনায় দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মাত্রা নেমেছিল প্রতি লিটারে মাত্র শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রামে। অথচ মৎস্যসম্পদের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫ মিলিগ্রাম।

একই বছর ভাওয়ালে জৈব অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি) সর্বোচ্চ ৩৬ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়, যা নির্ধারিত সীমার ছয় গুণ। আশুলিয়ায় রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (সিওডি) ছিল সর্বোচ্চ ১২৯ মিলিগ্রাম, মানদণ্ডের প্রায় ২ দশমিক ৬ গুণ। এর আগের বছর সর্বনিম্ন অক্সিজেন ছিল শূন্য এবং সর্বোচ্চ বিওডি ৬২ মিলিগ্রাম।

পরবর্তী দুই বছরের পরীক্ষাতেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। ২০২২ সালের মার্চে আশুলিয়ায় অক্সিজেন ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২১ মিলিগ্রাম। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরাগ ব্রিজ এলাকায় তা নেমে আসে শূন্য দশমিক ১০ মিলিগ্রামে। ওই বছর সর্বোচ্চ বিওডি ছিল ২৯ এবং সিওডি ৭৫ মিলিগ্রাম, যা নির্ধারিত সীমার যথাক্রমে প্রায় পাঁচ ও দেড় গুণ। যদিও স্থান ও মৌসুমভেদে পানির মানে পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে ২০২৫ সালে প্রকাশিত গবেষণার বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল ও তুরাগসংলগ্ন জলাশয়ের কিছু নমুনায় সিসা নিরাপদ সীমার ৩০ গুণ, নিকেল ছয় গুণ এবং লোহা ও ক্রোমিয়াম পাঁচ গুণ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কিছু নমুনার পিএইচ ছিল মাত্র ২–৪। ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে।

এসব তথ্য জলজ প্রাণী, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তুলে ধরছে। অথচ দীর্ঘদিনের এই দূষণ পরিস্থিতির মধ্যেই ১৭৩টি কারখানায় নতুন নজরদারি স্টেশন বসাতে ১৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

তুরাগের পানিতে অক্সিজেন প্রায় শূণ্য

দূষণকারী শনাক্ত, জরিমানা করেও বন্ধ হয়নি দূষণ

তুরাগের দূষণকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্তে পরিবেশ অধিদপ্তর দেড় দশক ধরে অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানা ও কারখানা বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবু নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ হয়নি।

২০১১ সালে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে ডেল্টা ডাইং, মল্লিক ফেব্রিকস, মুনটেক্স ফেব্রিকস, কেয়া নিট কম্পোজিট, জারা নিট কম্পোজিট ও কনভিন্স ডাইংকে প্রায় এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। অধিকাংশ কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) বন্ধ রেখে উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়। একই বছর পার্লস অ্যান্ড পসকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে সিনট্যাক্স ফিনিশিং মিলস, জিন্স কালেকশন, লন্ড্রি গেট, ইউনিক টেক্সটাইল মিলস ও সেফ ফ্যাশনসকে মোট ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ২০২৩ সালে মিঠু ওয়াশিং প্লান্টকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্যসহ বন্ধের নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।

সরকারি পর্যালোচনায় তুরাগে ৫৮টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ শনাক্ত হয়েছে। এসব উৎসমুখের সঙ্গে শুধু বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

চলতি অক্টোবরের ১৫ তারিখে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, তামিশনা গ্রুপ ও অরবিট প্রসেসিং মিলস পরিদর্শন করে বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের দায়ে ৬৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছিল।

অবশ্য অতীতে জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রকল্পের ১৭৩ কারখানার তালিকায় রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এই তথ্য নতুন প্রকল্পটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৭৩টি শিল্পকারখানায় নজরদারি ব্যবস্থা বসানো হলেও নদীর দূষণের সব উৎস শিল্পকারখানার ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়।

সাত হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিদর্শক মাত্র তিনজন

দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবলসংকটও বড় বাধা হিসেবে সামনে এসেছে।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় সাত হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৬৮৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি থাকা সত্ত্বেও অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নিঃসরণের তথ্য রয়েছে।

অথচ এসব প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা কার্যালয়ে মোট জনবল পাঁচজন, যার মধ্যে পরিদর্শক মাত্র তিনজন।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু শিল্পকারখানা নয়, বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্যও বিভিন্ন খাল ও নদীতে সরাসরি ফেলা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নতুন ১৭৩টি নজরদারি স্টেশন স্থাপন করা হলে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ, কারখানা পরিদর্শন এবং আইন প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নদী পরিষ্কারে ২ কোটি, প্রচারে ৪ কোটি ৬৫ লাখ

নতুন প্রকল্পের ব্যয়তালিকায় নজরদারি স্টেশনের বাইরে আরও কয়েকটি খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পে নদী পরিষ্কার কর্মসূচির জন্য ২ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। অথচ প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রমে বরাদ্দ ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সরাসরি নদী পরিষ্কারের তুলনায় প্রচারে ব্যয় ২ দশমিক ৩৩ গুণ।

প্রচার খাতের মধ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তথ্য প্রচারে ২ কোটি টাকা, ৩৫টি বিলবোর্ডে ১ কোটি ৫০ লাখ, ১০টি অডিও-ভিডিও নির্মাণে ৫০ লাখ, ৩০টি বিজ্ঞাপনে ৪৫ লাখ এবং সচেতনতামূলক উপকরণে ২০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ১৭ জন ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এতে জনপ্রতি গড় ব্যয় প্রায় ৫১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

দেশে ৪০টি প্রশিক্ষণে ২ কোটি এবং বিদেশে পাঁচটি প্রশিক্ষণে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পে গবেষণাগার সরঞ্জাম, ড্রোন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা এবং নদী পর্যবেক্ষণের জলযান কেনার বরাদ্দও রয়েছে।

সমীক্ষা নেই, অনিশ্চিত যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণও

প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে, উদ্যোগটি গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি। সরাসরি আয় না থাকায় আর্থিক আয়-ব্যয়ের বিশ্লেষণও করা হয়নি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ১৭৩টি অনলাইন মনিটরিং স্টেশনের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় কে বহন করবে, তা স্পষ্ট নয়।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়ন সভায় এ কারণে প্রকল্পে এক্সিট প্ল্যান বা প্রকল্প-পরবর্তী পরিচালনা পরিকল্পনা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রকল্পে নদীর পানি ও তলদেশের নমুনা সংগ্রহ, দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কার্যক্রমও রয়েছে।

নজরদারি বাড়বে, দূষণ কমবে কতটা

তুরাগের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের আগের অভিযান ও পানির মান পরীক্ষার তথ্য বলছে, নদীর দূষণ এবং দূষণের উৎস সম্পর্কে সরকারের কাছে আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য তথ্য রয়েছে।

শিল্পকারখানার ইটিপি বন্ধ রাখা, অপরিশোধিত বর্জ্য নিঃসরণ এবং নদীর পানিতে অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতির ঘটনা বহু বছর ধরে নথিভুক্ত হয়েছে। দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তারপরও দূষণ বন্ধ না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ১৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন নজরদারি স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, প্রতিটি স্টেশনে গড়ে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় করে দূষণের তথ্য সংগ্রহের পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না।

কারণ নদীর দূষণ শনাক্ত করা আর দূষণ বন্ধ করা এক বিষয় নয়। নতুন প্রকল্পের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কতটি যন্ত্র স্থাপন হলো, তার ওপর নয়; কতটি দূষণকারী উৎস বন্ধ হলো এবং তুরাগের পানির মান কতটা উন্নত হলো, তার ওপর।