ঢাকা,  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৯ ১৪৩৩

ইউরোপের ডেনিম বাজারের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে

আট মাসে রপ্তানি কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ, তবে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ১২.৭১ শতাংশ; পাকিস্তান-তুরস্ককে পেছনে রেখে শীর্ষে বাংলাদেশ

দেশ ও প্রবৃদ্ধি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩০,২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের ডেনিম বাজারের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে

প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)

রপ্তানিতে ধীরগতির মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো প্রতিযোগীদের বড় ব্যবধানে পেছনে রেখে শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে দেশটি। তবে একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য সংকলন করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি হয়েছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরোর। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯২ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ইউরোর। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক ডেনিম আমদানিও কমেছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউ আমদানি করেছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরোর ডেনিম। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরোয়। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হয়েছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কিছুটা বেশি হারে কমায় বাজার হিস্যাও সামান্য কমেছে। গত বছরের জানুয়ারি-আগস্টে ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অংশ ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। চলতি বছরের একই সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশে। অর্থাৎ হিস্যা কমেছে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট।

তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। প্রথম আট মাসে পাকিস্তান থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি হয়েছে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরোর। দেশটির বাজার হিস্যা ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে তুরস্ক থেকে আমদানি হয়েছে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর, যার বাজার হিস্যা ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অর্থাৎ ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অংশ পাকিস্তানের তুলনায় ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ পয়েন্ট এবং তুরস্কের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

বছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি কমলেও আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ওই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর। আগের বছরের আগস্টে ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ইউরো। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

একই মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক বাজারের চেয়েও বেশি হয়েছে। ফলে ওই মাসে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশে, যা আগের বছরের আগস্টে ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

আগস্টের এই প্রবৃদ্ধি প্রথম আট মাসের সামগ্রিক পতনও কিছুটা কমিয়েছে। জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগস্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে।

পর্যােলোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। ২০২১ সালে ১১৮ কোটি ডলার রপ্তানি করে বাজারের ২৬ দশমিক ৮২ শতাংশ দখলে ছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে রপ্তানি বেড়ে হয় ১৫৬ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে ১২০ কোটি ৮৬ লাখ এবং ২০২৪ সালে ১৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। ২০২৫ সালে ১৬৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রপ্তানির বিপরীতে বাজার হিস্যা দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৮৮ শতাংশে।

এদিকে ইউরোপের ডেনিম বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রও বদলাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। পাকিস্তানের কমেছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, মরক্কোর ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তিউনিসিয়ার ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বিপরীতে দ্রুত এগিয়েছে মিসর, চীন ও ভিয়েতনাম। একই সময়ে মিসরের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের সামগ্রিক বাজার সংকুচিত হলেও কয়েকটি দেশ নিজেদের রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ করে তুরস্কের রপ্তানি প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো কমলেও বাংলাদেশ সেই বাজারের বড় অংশ নিতে পারেনি। বরং মিসর, চীন ও ভিয়েতনাম রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

সব মিলিয়ে ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব এখনো অক্ষুণ্ন। তবে আট মাসে রপ্তানি ও বাজার হিস্যা কিছুটা কমে যাওয়ার বিপরীতে আগস্টের প্রবৃদ্ধি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনব্যয়, দ্রুত সরবরাহ এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।