ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৮ ১৪৩৩

সাজেকে পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইউপিডিএফের গুলি, উদ্ধার তিন হাজার

গঙ্গারাম বাজারে সড়ক অবরোধের পর ৩০–৪০টি গুলি ছোড়ার অভিযোগ আইএসপিআরের; সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় পর্যটকদের

দেশ ও প্রবৃদ্ধি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২৪,২৩ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সাজেকে পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইউপিডিএফের গুলি, উদ্ধার তিন হাজার

ডিএসজে

রাঙামাটির সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।  

গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনার পর সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে আটকা পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

আইএসপিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করেন এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

এতে সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইএসপিআরের বিবরণ অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু আলোচনা চলাকালে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইএসপিআরের অভিযোগ, ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আকস্মিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এরপর পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পরই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০টি গুলি ছোড়েন।

এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধের মুখে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইএসপিআর জানিয়েছে, প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

আইএসপিআরের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যেই সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের বক্তব্য আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাজেক পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করেন। পর্যটকদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, স্থানীয় পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে অবরোধ ও সশস্ত্র সহিংসতার মতো ঘটনা শুধু পর্যটকদের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করে না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসেবা এবং পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

সাজেকে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ পার্বত্য পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা স্থানীয় পর্যটনশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ