ছবি- ব্র্যাক ব্যাংক
তিন বছরে প্রায় ২৪ শতাংশ আয় করার সুযোগ নিয়ে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ছাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংক। বন্ডটিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদপূর্তিতে পাওয়া যাবে ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি বন্ডে সম্ভাব্য আয় প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। তবে মেয়াদের মধ্যে নিয়মিত কোনো সুদ পাবেন না বিনিয়োগকারীরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ব্র্যাক ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে তিন বছর মেয়াদি এই বন্ড ইস্যু শুরু হবে। এর বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা হলেও প্রাথমিক ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬১ টাকা।
ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাথমিক ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে তিন বছরে বিনিয়োগকারীর মোট আয় হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা, যা বিনিয়োগের প্রায় ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে এটি তিন বছরের মোট আয়, বার্ষিক মুনাফার হার নয়।
বন্ডটি জিরো-কুপন হওয়ায় নির্দিষ্ট সময় পরপর সুদ দেওয়া হবে না। অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বন্ড কিনে মেয়াদপূর্তিতে সম্পূর্ণ মূল্য পাওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আয় হবে। বিনিয়োগের সময় অনুযায়ী ক্রয়মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির দক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে এটি ইস্যু করা হচ্ছে।
ব্যাংকটির দাবি, বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন বন্ড হিসেবে এর কাঠামো সম্পর্কে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের স্বাধীন মূল্যায়ন নেওয়া হয়েছে। বন্ডটির কাঠামো আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার সংস্থা আইসিএমএর গ্রিন বন্ড মূলনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বন্ডটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ইস্যু করা হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করা হবে। ফলে মেয়াদপূর্তির আগেও বিনিয়োগকারীরা বাজারে বন্ড কেনাবেচা করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। নির্ধারিত শর্তে প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডও বিনিয়োগ করতে পারবে। বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নেই। তবে বিও হিসাব বাধ্যতামূলক। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বুধবার আবেদন নেওয়া হবে।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, প্রযোজ্য কর আইনের বিধান অনুসারে জিরো-কুপন বন্ডের আয় কর অব্যাহতির সুবিধা পাবে। তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুযোগও থাকবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিশেষায়িত মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
বন্ডটির ট্রাস্টি প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি এবং ইস্যু ম্যানেজার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।















