ঢাকা,  রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১০ ১৪৩৩

বিদেশি পর্যটকদের কার্ডে লেনদেনের ১৫ শতাংশ ডলারে রাখা যাবে

হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতানের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের নতুন সুযোগ

টাকা-কড়ি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪৭,২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি পর্যটকদের কার্ডে লেনদেনের ১৫ শতাংশ ডলারে রাখা যাবে

প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবে দেশের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাকি ৮৫ শতাংশ দেশীয় মুদ্রা টাকায় রূপান্তর করতে হবে। বিদেশি পর্যটকদের ব্যয় উৎসাহিত করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে এ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের অনুমোদিত সব ব্যাংকের জন্য নির্দেশনাটি প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকেরা আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড কিংবা অনুমোদিত অন্য কোনো পেমেন্ট ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সেই অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবে।

তবে এ সুবিধা কেবল অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মোট প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সংরক্ষণ করতে পারবে। অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় নগদায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চলতি হিসাবের আন্তর্জাতিক লেনদেনের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদিত বিদেশি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর যথাযথভাবে কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এর আগে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত ২০১৮ সালের নির্দেশিকায় কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত দোকানের নামে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলার বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে পর্যটন ও সেবানির্ভর অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও এ সুবিধার সুযোগ তৈরি হলো।

নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সরাসরি আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে যোগ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় নির্বাহ সহজ হতে পারে।