ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

এক দিনেই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত!

চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে সরকারের সম্মতি, পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে পরিচালনা পর্ষদ

করপোরেট

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৫,১৯ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

এক দিনেই তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত!

ডিএসজে কোলাজ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খাতের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় একযোগে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের তিন বড় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক—সোনালী, জনতা ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক তিনটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ব্যাংক তিনটির পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় বিধিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংক পিএলসির মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে সরকারের সম্মতি ও সুপারিশ রয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

এর অর্থ, সরকার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলে তিন এমডির দায়িত্ব পালনের সমাপ্তি এবং নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি পর্ষদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।

একই দিনে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তির মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও আদায়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ আদায় এবং আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নির্বাহী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। তিন ব্যাংকের শীর্ষ পদে একযোগে পরিবর্তন এলে চলমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সংস্কার কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আদেশে তিন এমডির চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কিংবা অনিয়মের বিষয়ও সরবরাহ করা আদেশের বিবরণে নেই। ফলে এই সিদ্ধান্তকে কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই।

একইভাবে তিন কর্মকর্তার চুক্তির কতটুকু মেয়াদ অবশিষ্ট ছিল, কবে থেকে তাঁদের দায়িত্বের অবসান কার্যকর হবে এবং নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়েও আদেশের বিবরণে কিছু জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৃথক। পরিচালনা পর্ষদ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ কারণে এমডি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট আইন ও চুক্তির শর্ত অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক তিনটির শীর্ষ নির্বাহী পদে পরবর্তী নিয়োগ ও দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টিও সামনে আসবে।

তিন ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ঋণ আদায় ও সুশাসন জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে দক্ষতা, ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর ব্যাংক তিনটির পরিচালনাগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং চলমান আর্থিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা হবে সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদগুলোর তাৎক্ষণিক দায়িত্ব।
 

সর্বশেষ