ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

সিটি ব্যাংকের সদর দপ্তরের জমিতে ইউসিবির আইনি দাবি 

করপোরেট

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৬,৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:২৩,১০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সিটি ব্যাংকের সদর দপ্তরের জমিতে ইউসিবির আইনি দাবি 

ডিএসজে কোলাজ

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয় যে জমিতে অবস্থিত, সেই জমি ক্রোক করেছে আরেক বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। তবে ঋণটি সিটি ব্যাংকের নয়। জমির মালিক নাসা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতের আদেশে সম্পত্তিটি ক্রোক করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ কার্যকর করতে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশপথে নোটিশ টাঙিয়েছে ইউসিবি। নোটিশ অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতের ১৪ সেপ্টেম্বরের আদেশে গুলশান মডেল টাউনের এসই(ডি) ব্লক-৩-এর এক বিঘা জমি এবং সেখানে থাকা সব স্থাপনা ও সংযোজন ক্রোক করা হয়েছে। বর্তমানে এই সম্পত্তিতেই সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে।

এই ক্রোকের পেছনে রয়েছে নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ঋণ। প্রতিষ্ঠানটি ইউসিবি থেকে ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউসিবিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ার পর পাওনা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ইউসিবি। ব্যাংকটির আবেদনের পর আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন এবং সেখানে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদর্শন করতে বলেন।

এরপরই বিষয়টি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে। যে ভবন থেকে ব্যাংকটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেই ভবনের প্রবেশপথেই এখন অন্য একটি ব্যাংকের ঋণ আদায়ের নোটিশ ঝুলছে।

ইউসিবির নোটিশ অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পর সম্পত্তিটির ওপর ব্যাংকটির আইনি স্বার্থ ও দাবি তৈরি হয়েছে। ইউসিবির পূর্বলিখিত সম্মতি ছাড়া জমি ও স্থাপনা বিক্রি, কেনা, হস্তান্তর, নিবন্ধন কিংবা অন্য কোনো লেনদেন করা যাবে না। আদেশ অমান্য করে কোনো লেনদেন হলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সম্পত্তি ক্রোকের অর্থ মালিকানা ইউসিবির কাছে চলে যাওয়া নয়। এটি খেলাপি ঋণ আদায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ, যার মাধ্যমে সম্পত্তির লেনদেন ও হস্তান্তরের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে।

নাসা তাইপেই টেক্সটাইল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রুপটির বিপুল ব্যাংকঋণ ও খেলাপি দায় আর্থিক খাতে আলোচনায় এসেছে। এবার সেই ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া এসে পৌঁছেছে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থাকা সম্পত্তিতে।

সিটি ব্যাংকের মতো একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কেন্দ্র। সেখান থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে যে সম্পত্তিতে এই কার্যক্রম চলছে, সেটি অন্য প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় ক্রোক হওয়া স্বাভাবিকভাবেই সম্পত্তিটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সামনে এনেছে।

আপাতত অবশ্য আদালতের আদেশটি নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন সম্পত্তিকে ঘিরে। সিটি ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করা কিংবা ভবনটি খালি করার কোনো নির্দেশের কথা প্রকাশিত তথ্যে নেই।

কিন্তু গুলশানের প্রবেশপথে টাঙানো ইউসিবির নোটিশ একটি অস্বাভাবিক বাস্তবতা সামনে এনেছে—যে ঠিকানা সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে পরিচিত, সেই জমিই এখন আরেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় ক্রোক সম্পত্তি।
 

সর্বশেষ