ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

ব্যবসা সচল রাখতে বিশেষ সুযোগ বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠানকে

করপোরেট

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৩,১২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

ব্যবসা সচল রাখতে বিশেষ সুযোগ বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠানকে

ডিএসজে কোলাজ

বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ঋণসুবিধার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ঋণখেলাপি শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের ১০৫ কোটি টাকার বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণসীমা নবায়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডকে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ঋণপত্র খোলা ও চলতি মূলধন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে ব্যাংক কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) পৃথক দুটি সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ অব্যাহতি দেওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি বিদ্যমান ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের অনুকূলে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ঋণপত্র স্থাপন ও চলতি মূলধন সুবিধা দিতে পারবে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় পণ্য ও উপকরণ সংগ্রহের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় মোট কত টাকা ঋণ দেওয়া যাবে, তা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে ঋণখেলাপি শাইনপুকুর সিরামিকসের বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণসীমা নবায়ন করতে পারবে সোনালী ব্যাংক পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ১০৫ কোটি টাকার ঋণসীমার মধ্যে রয়েছে ৫৫ কোটি টাকার নগদ ঋণ (সিসি-হাইপো), ১৫ শতাংশ মার্জিনে ২৫ কোটি টাকার ঋণপত্র এবং ১০ শতাংশ মার্জিনে ২৫ কোটি টাকার আমদানি ঋণসুবিধা (এলটিআর)।

ঋণখেলাপি হওয়ায় শাইনপুকুর সিরামিকসের ঋণসীমা নবায়নে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ অব্যাহতির ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান ঋণসুবিধা ব্যবহার করে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে ১০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অনুমোদন দেয়নি; বিদ্যমান ঋণসীমা নবায়নের সুযোগ দিয়েছে।

দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই বিশেষ অব্যাহতির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের পাওনা আদায় নিশ্চিত করতে শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠান দুটির সব আয় নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া বিশেষ ঋণসুবিধার বিপরীতে সরকারের কোনো আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে না। প্রতিষ্ঠান দুটি সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগে বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠান দুটির মোট বকেয়া ঋণ কিংবা বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সর্বশেষ