ছবি- ইনভেস্ট বাংলাদেশ
শেলসহ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের তৈরি লুব্রিকেন্ট আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রির ব্যবসা থেকে এবার স্থানীয় উৎপাদনে যাচ্ছে র্যানকন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করে আমদানি করা কাঁচামাল থেকে দেশেই ইঞ্জিন অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের লুব্রিকেন্ট মিশ্রণ ও প্রস্তুত করবে র্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড।
কারখানাটি স্থাপনে কোম্পানির প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রাথমিকভাবে বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার লুব্রিকেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। সরাসরি কর্মসংস্থান হবে ২৫০ জনের বেশি।
এ জন্য সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাড়ে ৬ একর উন্নত জমি নিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ৫০ বছরের ইজারা চুক্তি করেছে র্যানকন লুব্রিকেন্টস।
এই বিনিয়োগের বড় পরিবর্তনটি জমি বা কারখানার আকারে নয়, র্যানকনের ব্যবসার ধরনে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী কোম্পানি র্যাংকস পেট্রোলিয়াম ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে শেল লুব্রিকেন্টসের পরিবেশক হিসেবে কাজ করছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমদানি ও বিপণননির্ভর এই ব্যবসার একটি অংশ এখন দেশের ভেতরে উৎপাদন পর্যায়ে যাচ্ছে।
নতুন কারখানায় বেজ অয়েলসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এনে বিভিন্ন ধরনের লুব্রিকেন্ট মিশ্রণ ও প্রস্তুত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে মোটরযান ও শিল্পকারখানার লুব্রিকেন্ট, গিয়ার অয়েল, হিট ট্রান্সফার অয়েল, কম্প্রেসর অয়েল, ট্রান্সফরমার অয়েল ও গ্রিজ উৎপাদন করা হবে।
এর অর্থ, বর্তমানে বিদেশে তৈরি অবস্থায় যে লুব্রিকেন্ট দেশে আসে, তার একটি অংশের ক্ষেত্রে আমদানি হবে মূলত কাঁচামাল; মিশ্রণ ও চূড়ান্ত পণ্য তৈরির কাজ হবে বাংলাদেশে। স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশও দেশে যুক্ত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরের ৯০ দিনের মধ্যে র্যানকনকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। জমি হাতে পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। আর জমি হস্তান্তরের সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি এবং র্যানকন লুব্রিকেন্টসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জামান খান চুক্তিতে সই করেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠনের পর এটি নতুন সংস্থাটির প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি। নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, র্যানকন লুব্রিকেন্টসের মতো বিনিয়োগকারীর প্রতিশ্রুতি নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন এবং অন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতেও সহায়ক হবে।
কারখানাটিতে আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বেজ অয়েল সড়কপথের পাশাপাশি জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কারখানায় নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলে কোম্পানির প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কারখানাটির প্রয়োজনীয় পরিষেবা সংযোগ পেতে সহায়তা করবে। সরকার ঘোষিত প্রযোজ্য শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও কর-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে র্যানকনকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, শ্রম ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধি মানতে হবে। নিজস্ব বর্জ্য ও পয়ঃশোধন ব্যবস্থা স্থাপন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কারখানাকে যুক্ত করার শর্তও রয়েছে।
চুক্তিতে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন ও বিধিপালন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে চুক্তি বাতিলের আগে তা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। বিরোধ দেখা দিলে আরবিট্রেশন আইন, ২০০১ অনুযায়ী সালিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
র্যানকনের জন্য প্রকল্পটি তাই শুধু আরেকটি কারখানা নয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের লুব্রিকেন্ট দেশের বাজারে বিপণনের পর এবার সেই পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়ার একটি অংশ বাংলাদেশে নিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কারখানা চালু হলে আমদানিনির্ভর তৈরি লুব্রিকেন্টের জায়গায় স্থানীয়ভাবে মিশ্রণ ও প্রস্তুত করা পণ্যের সরবরাহ বাড়বে।















