ঢাকা,  রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১০ ১৪৩৩

এডিবির ঋণে পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন চার গুণ করবে মডার্ন সিনটেক্স

করপোরেট

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৫২,২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:০০,২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এডিবির ঋণে পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন চার গুণ করবে মডার্ন সিনটেক্স

ডিএসজে

দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পে আমদানিনির্ভর কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামালের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডকে ৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটির পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১০৭ টন থেকে ৪০৭ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়বে ২৮০ শতাংশ বা প্রায় চার গুণ। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এডিবি ও টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মডার্ন সিনটেক্স ৫ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করেছে। ঋণের পুরো অর্থই নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরিতে যাচ্ছে না। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, অর্থের একটি অংশ দিয়ে মডার্ন সিনটেক্সের বিদ্যমান স্বল্পমেয়াদি স্থানীয় মুদ্রার চলতি মূলধন ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বৈদেশিক মুদ্রায় তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছে এডিবি। 

তবে বড় এই করপোরেট ঋণের সুদহার, মেয়াদ, গ্রেস পিরিয়ড ও পরিশোধসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শর্ত প্রকাশ করেনি এডিবি। ৫ কোটি ডলারের কত অংশ নতুন বিনিয়োগ এবং কত অংশ পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহার হবে, সেই বিভাজনও প্রকাশ করা হয়নি।

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডার্ন সিনটেক্সের বিদ্যমান কারখানা প্রাঙ্গণেই উৎপাদন সম্প্রসারণ করা হবে। এ জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সেখানে পাঁচতলা একটি ভবনও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রসারিত কারখানায় ২০২৭ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সক্ষমতায় প্রতিষ্ঠানটি হাই ইনট্রিনসিক ভিসকোসিটি পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন করবে। এই বিশেষায়িত পলিয়েস্টার চিপ উচ্চমূল্যের বস্ত্র ও পোশাকপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এডিবির হিসাবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে পলিয়েস্টার চিপ আমদানি প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও পশ্চাৎ-সংযোগ শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পে জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এডিবির হিসাবে, এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমবে বছরে প্রায় ২ হাজার ২২২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ। কারখানার জন্য পরিবেশবান্ধব ভবনের সর্বোচ্চ মানের লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জনেরও লক্ষ্য রয়েছে। নতুন প্রকল্পে প্রায় ১০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত এখনো কৃত্রিম তন্তুর কাঁচামালের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। তাঁর মতে, এই অর্থায়ন জ্বালানিসাশ্রয়ী দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পশ্চাৎ-সংযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং উচ্চমূল্যের বস্ত্রপণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে।

মডার্ন সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, এডিবির অর্থায়ন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।

তবে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি ঋণের ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এডিবির প্রকাশিত প্রকল্প তথ্যে ৫ কোটি ডলারের সুদহার, ঋণের মেয়াদ, গ্রেস পিরিয়ড, কিস্তি ও পরিশোধসূচি, ফ্রন্ট-এন্ড ফি, কমিটমেন্ট ফি এবং জামানত বা নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ নেই। ফলে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে মডার্ন সিনটেক্সকে ঋণের মেয়াদ শেষে আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা জানা যাচ্ছে না। 

এডিবি নীতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশ ও খাতের বাজারদর এবং দেশ, কোম্পানি ও লেনদেনের ঝুঁকি বিবেচনায় ঋণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ডলারভিত্তিক ভাসমান সুদের ঋণে এডিবি এসওএফআর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট)-এর ওপর ঝুঁকিভিত্তিক অতিরিক্ত মার্জিন যোগ করতে পারে। স্থির সুদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সুদের বাইরেও ঋণের প্রকৃত ব্যয় বাড়াতে পারে বিভিন্ন ফি। 

এডিবির প্রকল্প মূল্যায়নে মডার্ন সিনটেক্স প্রকল্পের পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ‘মডারেট’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। বর্জ্যপানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিপজ্জনক উপকরণ, কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শ্রম ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে এসব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাযোগ্য বলে মনে করছে এডিবি।