ঢাকা,  রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১০ ১৪৩৩

প্রি-শিপমেন্ট ঋণের তহবিল এখন ৭ হাজার কোটি টাকার

টাকা-কড়ি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১১,২ অক্টোবর ২০২৬

প্রি-শিপমেন্ট ঋণের তহবিল এখন ৭ হাজার কোটি টাকার

ডিএসজে

রপ্তানির জন্য পণ্য তৈরি থেকে জাহাজীকরণের আগপর্যন্ত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে প্রি-শিপমেন্ট ঋণের তহবিল বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ রপ্তানিকারকদের কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য আরও ২ হাজার কোটি টাকা যোগ হলো এ তহবিলে।

একই সঙ্গে নতুন ঋণের সুদও নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় রপ্তানিকারকের কাছ থেকে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ নিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে অর্থের জোগান বাড়িয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রি-শিপমেন্ট ঋণ মূলত রপ্তানির আগের অর্থসংস্থান। বিদেশি ক্রেতার কার্যাদেশ পাওয়ার পর পণ্য তৈরি করতে রপ্তানিকারকের কাঁচামাল কেনা, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খাতে অর্থের প্রয়োজন হয়। পণ্য বিদেশে পাঠানোর পর মূল্য পাওয়ার আগপর্যন্ত এই অর্থের জোগান ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সিদ্ধান্তে সেই পর্যায়ে কম সুদের ঋণের সুযোগ আরও বাড়ছে।

তহবিল বাড়াতে নতুন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট রপ্তানি সহায়তার আকার বাড়ানো হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি সহায়তায় প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল (ইএফপিএফ) থেকে ২ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর ফলে প্রি-শিপমেন্ট ঋণের তহবিল ৫ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা হলো। অন্যদিকে ইএফপিএফে অবশিষ্ট থাকবে ৩ হাজার কোটি টাকা।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তহবিলের অর্থ নেবে ৩ শতাংশ সুদে। সেই অর্থ রপ্তানিকারকদের ঋণ হিসেবে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ হবে ৬ শতাংশ। 

একজন রপ্তানিকারকের জন্য সিদ্ধান্তটির গুরুত্ব মূলত অর্থের খরচে। কার্যাদেশ হাতে থাকলেও পণ্য তৈরির জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে উৎপাদন শুরু বা সময়মতো শেষ করা কঠিন হতে পারে। আবার বেশি সুদে ঋণ নিলে উৎপাদন খরচ বাড়ে। ৬ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমা সেই অর্থায়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ দিতে পারে।

বিশেষ করে যেসব রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের চাপ বেশি, তাদের জন্য পণ্য জাহাজীকরণের আগের অর্থসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তবে তহবিলের আকার বাড়ার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক রপ্তানিকারক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ পাবেন। স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার বিদ্যমান যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাংকগুলোর জন্য অর্থ ফেরতের শর্তও রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুনঃঅর্থায়নের টাকা পরিশোধে কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হলে অনাদায়ী সময়ের জন্য ব্যাংক রেটে সুদ দিতে হবে।

অন্যদিকে কোনো ব্যাংক চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের পুরোটা পরিশোধ করতে পারবে। আংশিক অর্থ সমন্বয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।