ডিএসজে
মেয়াদ শেষে অবসায়নের বদলে ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদিতে রূপান্তরের পথে যাচ্ছে ৫০ কোটি টাকার সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-০১। বুধবার বিশেষ সাধারণ সভায় ভোট দেওয়া ৯৯ দশমিক ১৯ শতাংশ ইউনিটধারী রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন মিললে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ক্লোজড-এন্ড ফান্ডটির কাঠামো বদলে যাবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের রাওয়া কনভেনশন হলে ফান্ডটির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর ট্রাস্টি জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬৩ অনুসারে ইউনিটধারীরা ক্লোজড-এন্ড থেকে ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
ফান্ডটির আকার ৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হিসাবে ইউনিট রয়েছে ৫ কোটি ১ লাখ ৩১ হাজার। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড এর উদ্যোক্তা, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক সিএপিএম কোম্পানি লিমিটেড।
ফান্ডটির ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি। ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে এর ইউনিটের লেনদেন শুরু হয়। মূল প্রসপেক্টাসেও ফান্ডটির মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের পাশাপাশি বিধি অনুসরণ করে মেয়াদ শেষে ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ইউনিটধারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোজড-এন্ড ফান্ডে ইউনিট কিনতে বা বিক্রি করতে হয় স্টক এক্সচেঞ্জে বাজারদরে। ওপেন-এন্ডে রূপান্তরের পর কাঠামো বদলে যাবে; তখন বিধি ও অনুমোদিত রূপান্তর কাঠামো অনুযায়ী সম্পদমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল্যে ইউনিট কেনা বা সমর্পণের সুযোগ তৈরি হবে।
রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এলো, যখন ফান্ডটির বাজারমূল্যের সম্পদ ও ক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপক সিএপিএমের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে, ১৪ সেপ্টেম্বর ফান্ডটির ক্রয়মূল্যে মোট নিট সম্পদ ছিল ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, কিন্তু বাজারমূল্যে তা ছিল ৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ বিনিয়োগের ক্রয়মূল্যের তুলনায় বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কম। ইউনিটপ্রতি ক্রয়মূল্যে নিট সম্পদমূল্য ছিল ১০ টাকা ৯২ পয়সা এবং বাজারমূল্যে ৮ টাকা ৬২ পয়সা।
তবে গত অর্থবছরে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে ফান্ডটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ইউনিটপ্রতি আয় ১ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬-এ বাজারমূল্যে ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৯ টাকা ১ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ৭ টাকা ৬৬ পয়সা।
ফান্ডটির সামনে তাই এখন আর জানুয়ারিতে অবসায়নই একমাত্র পথ নয়। প্রায় সব ভোট দেওয়া ইউনিটের সমর্থনে ওপেন-এন্ডে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে কাঠামো বদলের শেষ সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে নয়—বিএসইসির অনুমোদন পেলেই রূপান্তরটি কার্যকর হবে।













