ডিএসজে
পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। একই সঙ্গে আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হতে যাওয়া এই সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
এ দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংকপ্রতি বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ সীমা বাড়বে ১০০ কোটি টাকা বা ৫০ শতাংশ। তবে এই সীমা বাড়লেই পুরো অর্থ বাজারে আসবে না। ব্যাংকগুলো সুবিধাটি কতটা ব্যবহার করবে, তার ওপর নির্ভর করবে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ তহবিল সুবিধা চালু করেছিল। বর্তমানে একটি তফসিলি ব্যাংক এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করতে পারে। ডিবিএ বলছে, সুবিধাটি বাজারের তারল্য ও স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
ব্রোকারদের সংগঠনটির নতুন দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন শেয়ারবাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেলে শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে বিনিয়োগকারীকে কম দরে বিক্রির চাপ নিতে হয়। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় থাকলে সেই চাপ সামাল দেওয়ার মতো ক্রয়ক্ষমতা বাজারে তৈরি হতে পারে।
ডিবিএ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাজনিত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথাও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরেছে। সংগঠনটির মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ তহবিল বন্ধ না করে ব্যাংকগুলোর বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সুবিধাটির নতুন মেয়াদ শুরু হবে আগামী ১ ডিসেম্বর এবং চলবে ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছর ব্যাংকগুলোর জন্য এই বিশেষ বিনিয়োগসুবিধা ধরে রাখতে চাইছে ডিবিএ।
ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর ওপর অতিনির্ভরতা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার একটি জায়গা। দর দ্রুত বাড়লে ছোট বিনিয়োগকারীদের বাজারে প্রবেশ এবং দরপতনের সময় একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ব্যাংকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণ বাড়লে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভারসাম্য এবং লেনদেনের গভীরতা বাড়ার সুযোগ থাকে।
এই কারণেই ডিবিএ শুধু সাময়িক তারল্য বাড়ানোর পরিবর্তে বিশেষ তহবিলকে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের একটি উৎস হিসেবে ধরে রাখতে চাইছে। সংগঠনটি মনে করে, এতে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতেও সহায়তা হবে।















