ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১২ ১৪৩৩

মিউচুয়াল ফান্ডে অস্বাভাবিক দর, বিএসইসির সতর্কবার্তা

পুঁজিবাজার

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৩৮,৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:২৬,৬ অক্টোবর ২০২৬

মিউচুয়াল ফান্ডে অস্বাভাবিক দর, বিএসইসির সতর্কবার্তা

ডিএসজে

মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদমূল্যের সঙ্গে বাজারদরের অস্বাভাবিক ব্যবধান এবং কয়েকটি ফান্ডে সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, শুধু দর বাড়তে দেখে ইউনিট কেনা উচিত নয়; বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে প্রতি ইউনিটের প্রকৃত নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানিয়েছে, সম্প্রতি কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট এনএভির তুলনায় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে’ লেনদেন হচ্ছে। বাজারদর ও অন্তর্নিহিত সম্পদমূল্যের এমন অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ‘বিশেষ সতর্কতার বিষয়’ বলেছে কমিশন।

এই সতর্কতা এলো কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ডে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেন সামনে আসার পর। ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ডিএসইর তদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১০২ শতাংশের বেশি বাড়ে। 

তদন্তে সম্পর্কিত কয়েকটি হিসাবের মধ্যে লেনদেন, একই ট্রেডিং ওয়ার্কস্টেশন ব্যবহারসহ লেনদেনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দরও প্রায় দেড় মাসে ৮০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাড়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাব ও কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের লেনদেন খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দর ও সম্পদমূল্যের ব্যবধান অন্য কয়েকটি ফান্ডেও বড়। প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৮ টাকা ৫৯ পয়সা হলেও ২৭ সেপ্টেম্বর ইউনিটটির দর উঠেছিল ৩৬ টাকায়। পিএফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৮ টাকা ৮৪ পয়সার বিপরীতে বাজারদর ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৭ টাকা ৯৬ পয়সা হলেও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে ১৭ টাকায়।

এই প্রেক্ষাপটেই বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের সামনে ‘দর বনাম সম্পদমূল্য’ প্রশ্নটি তুলেছে।

সহজ হিসাবে, একটি ফান্ডের সম্পদের বাজারমূল্য থেকে দায় বাদ দিয়ে মোট ইউনিট দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ইউনিটের এনএভি পাওয়া যায়। অর্থাৎ একটি ইউনিটের পেছনে ১০ টাকার সম্পদ থাকলেও বাজারে সেটি অনেক বেশি দামে কিনলে বিনিয়োগকারী সম্পদের তুলনায় বাড়তি মূল্য দিচ্ছেন। কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো ফান্ড নগদায়ন হলে ইউনিটধারীর এনএভির চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই। 

সর্বশেষ তথ্যেও কয়েকটি ফান্ডের সম্পদের দুর্বলতা স্পষ্ট। ৫ অক্টোবর এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্যভিত্তিক এনএভি ছিল ৭ টাকা ৩৭ পয়সা, ক্রয়মূল্যভিত্তিক ১১ টাকা ৬৮ পয়সা। ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডে তা ছিল যথাক্রমে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা ও ১১ টাকা ৬১ পয়সা। ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্যভিত্তিক এনএভি ৫ টাকা ৮৪ পয়সা, ক্রয়মূল্যভিত্তিক ১১ টাকা ৩৩ পয়সা; বিনিয়োগে ফান্ডটির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।

বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের সর্বশেষ এনএভি, আর্থিক অবস্থা, মেয়াদ ও পোর্টফোলিও যাচাই করতে বলেছে। একই সঙ্গে গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে। 

বিনিয়োগকারীকে সম্পদমূল্য দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বললেও অস্বাভাবিক দর তৈরির পেছনে সমন্বিত লেনদেন, নির্দিষ্ট হিসাব বা ব্যক্তি-গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকলে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক ও স্টক এক্সচেঞ্জের। কারণ দর ঘুরে গেলে বেশি দামে শেষ দিকে ইউনিট কেনা সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপরই সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঝুঁকি এসে পড়ে।