ঢাকা,  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১২ ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা পাঠালেন ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার

টাকা-কড়ি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৪৩,১ অক্টোবর ২০২৬

সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা পাঠালেন ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার

প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)

কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণশ্রমিক, কেউ মালয়েশিয়ার কারখানায় কর্মরত, কেউ আবার ইউরোপ-আমেরিকায় নানা পেশায়। দেশের বাইরে থাকা এসব মানুষের পাঠানো অর্থে সেপ্টেম্বরেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে যোগ হয়েছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ বা ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২২ কোটি টাকা।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার। টাকায় যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এই অর্থ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব নয়—দেশে থাকা লাখো পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, ঋণ পরিশোধ কিংবা ছোটখাটো বিনিয়োগেরও অন্যতম উৎস।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সেপ্টেম্বরের প্রবাসী আয়ের এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরে মাসিক প্রবাসী আয় বেড়েছে ৮ কোটি ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

তবে সেপ্টেম্বরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বেশি ছিল। জুলাইয়ে এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ২০ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে প্রায় ৯ কোটি ২৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি থাকলেও মাসওয়ারি হিসাবে সেপ্টেম্বরে গতি কিছুটা কমেছে।
তারপরও অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্র শক্তিশালী।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ বা ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

এই বাড়তি ডলারের গুরুত্ব শুধু প্রবাসী পরিবারের আয় বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের জোগান এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সামলাতেও এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।

বার্ষিক হিসাবেও প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছিল ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।