প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারে নেতৃত্ব বদলেছে। দীর্ঘদিনের প্রধান বাজার জার্মানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে স্পেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। বিপরীতে জার্মানিতে সামান্য কমেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–সেপ্টেম্বরে স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। একই সময়ে জার্মানিতে হয়েছে ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ স্পেনে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছিল ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, স্পেনে ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিপরীতে জার্মানিতে কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।
ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
তবে এই প্রবৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে স্পেন থেকে। দেশটিতে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশই স্পেনের অবদান। স্পেন বাদ দিলে বাকি বাজারগুলোতে সম্মিলিত রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।
ইউরোপের অন্য বড় বাজারগুলোর চিত্র অবশ্য মিশ্র। জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। ফ্রান্সে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার থেকে নেমে এসেছে ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১৯ লাখ ডলারে। তবে প্রধান পাঁচ বাজারের বাইরে ইইউর অন্যান্য দেশে সম্মিলিত রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের চিত্র কিছুটা আশাব্যঞ্জক। ওই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। স্পেনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। পোল্যান্ডে বেড়েছে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা প্রধান পাঁচ বাজারের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপরীতে জার্মানিতে ২ দশমিক ৬৮ এবং ফ্রান্সে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।
তবে ইউরোস্ট্যাটের আমদানি পরিসংখ্যানে বছরের প্রথম সাত মাসের চিত্র ভিন্ন। বিকেএমইএর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি–জুলাইয়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৮ লাখ ইউরোতে নেমেছে। নিট পোশাক আমদানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। যদিও শুধু জুলাইয়ে মোট পোশাক আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
ইপিবি ও ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানের সময়কাল, মুদ্রা ও হিসাবপদ্ধতি আলাদা। ফলে এগুলো সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়।
সামগ্রিকভাবে ইউরোপের বাজারে স্পেনের উত্থান বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। তবে মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ একটি দেশ থেকে আসায় রপ্তানির ভিত্তি কতটা বিস্তৃত, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।















