ছবি- ডিসিসিআই
যুক্তরাজ্যের বিশাল আমদানিবাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো অর্ধশতাংশের কম। সেই অংশ এক শতাংশে উন্নীত করা গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এক হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথে বড় বাধা তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯৪ শতাংশই আসে এ খাত থেকে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে। ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালার বিষয় ছিল ‘যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি: তৈরি পোশাক ব্যতীত অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা’।
মূল প্রবন্ধে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান
আরিফ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৪৬৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ পোশাকবহির্ভূত সব খাত মিলে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার।
তাঁর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মোট আমদানি ৯৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এর মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। বাজারের এক শতাংশ দখল করা গেলে রপ্তানি প্রায় ৯৪৮ কোটি ডলারে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ওষুধ, খাদ্য ও হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, কৃষিপণ্য, বাইসাইকেল, হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিকপণ্যে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান হাসান আরিফ। তবে শুধু নতুন পণ্য নির্বাচন করলেই হবে না; আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার, সনদায়ন, সরবরাহব্যবস্থা ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যের গুণগত মান, উৎস শনাক্তের ব্যবস্থা, মোড়কজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ে উন্নতি প্রয়োজন। বাজারের চাহিদা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগে সহায়ক হতে পারে।
কর্মশালায় যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের (ডিসিটিএস) সুবিধা ব্যবহারের পদ্ধতি তুলে ধরেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের আঞ্চলিক বাণিজ্য উপদেষ্টা এলি পার্কার। তিনি অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা, পণ্যের বাজারপ্রবেশ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্যিক সুযোগের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন।
আলোচনায় ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, পণ্যের পরীক্ষণ ও সনদায়ন সহজ করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে পোশাকবহির্ভূত রপ্তানি বাড়ানো কঠিন হবে।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তাই শুধু বেশি পণ্য বিক্রির নয়, রপ্তানি আয়ের কাঠামো বদলানোরও। বর্তমানে প্রতি ১০০ ডলার রপ্তানির ৯৪ ডলারই তৈরি পোশাক থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতে পারলে একটি খাতের বাজারঝুঁকির ওপর দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের নির্ভরতাও কমবে।















