ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

পোশাক রপ্তানির ৩১ শতাংশই এখন তুলাবিহীন পণ্য

দেশ ও প্রবৃদ্ধি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৪,১৩ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

পোশাক রপ্তানির ৩১ শতাংশই এখন তুলাবিহীন পণ্য

প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলানির্ভরতার বাইরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তুলাবিহীন তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯১৭ কোটি ডলারের। মোট পোশাক রপ্তানিতে এ ধরনের পণ্যের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ২৮ শতাংশ, যা আগস্টে বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) তৈরি জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে তুলাভিত্তিক পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ২ হাজার ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, যা মোট রপ্তানির ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে তুলাবিহীন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের, যার অংশ ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রতি ১০০ ডলারের পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩১ ডলার এখন আসছে তুলাবিহীন পোশাক থেকে। যদিও মোট রপ্তানিতে তুলাভিত্তিক পোশাকের প্রাধান্য এখনো অটুট, তবে বছরের বিভিন্ন মাসে তুলাবিহীন পোশাকের অংশ বৃদ্ধির প্রবণতা পণ্যের বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মোট পোশাক রপ্তানিতে তুলাবিহীন পোশাকের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ হলেও এপ্রিলে কমে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামে। মে মাসে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

জুনে প্রথমবারের মতো এই হার ৩০ শতাংশ অতিক্রম করে ৩১ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়। জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগস্টে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশে ওঠে। তবে সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ।

রপ্তানির অর্থমূল্যেও জুলাই ছিল তুলাবিহীন পোশাকের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী মাস। ওই মাসে এ ধরনের পোশাক রপ্তানি হয় ১৩০ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের। আগস্টে তা কমে ১২৫ কোটি ৪ লাখ ডলারে এবং সেপ্টেম্বরে আরও কমে ১০০ কোটি ৪০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে তুলাভিত্তিক পোশাক রপ্তানিতে মাসভেদে ওঠানামা থাকলেও নয় মাসের প্রতিটি মাসেই এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯৭ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলারের মধ্যে। জানুয়ারিতে তুলাভিত্তিক পোশাক রপ্তানি হয় ২৬০ কোটি ২২ লাখ ডলারের, যা সেপ্টেম্বরে দাঁড়ায় ২০৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোট রপ্তানিতে তুলাবিহীন পোশাকের অংশ বৃদ্ধি মানেই তুলাভিত্তিক পোশাকের বাজার স্থায়ীভাবে সংকুচিত হচ্ছে, এমন নয়। কারণ তুলাবিহীন পোশাকের রপ্তানি আয়ও বছরের বিভিন্ন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তুলাভিত্তিক পোশাকের রপ্তানিতে ওঠানামা মোট রপ্তানিতে দুই ধরনের পণ্যের অংশকে প্রভাবিত করেছে।

বিশ্বের তৈরি পোশাকশিল্পে পলিয়েস্টার, নাইলন ও অন্যান্য কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খেলাধুলার পোশাক, সক্রিয় জীবনযাপনের উপযোগী পোশাক, জ্যাকেট এবং বিশেষায়িত পোশাকে এসব তন্তুর ব্যবহার রয়েছে। ফলে তুলাবিহীন পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য নতুন পণ্য ও ক্রেতাগোষ্ঠীতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে তুলাবিহীন পোশাকের রপ্তানি আয় বাড়লেই দেশে সমপরিমাণ মূল্য সংযোজন বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সুতা, কাপড় ও অন্যান্য কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা এবং রপ্তানি মূল্যের বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক সুতা ও কাপড়ের দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে নয় মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে তুলাভিত্তিক পণ্যের আধিপত্য বজায় থাকলেও তুলাবিহীন পোশাক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তবে এ পরিবর্তন কতটা স্থায়ী এবং তা রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে কতটা মূল্য সংযোজন করছে, সেটিই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

সর্বশেষ