ঢাকা,  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ৭ ১৪৩৩

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি চায় বাংলাদেশ

দেশ ও প্রবৃদ্ধি

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০৮,১৩ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি চায় বাংলাদেশ

ছবি- বাণিজ্য মন্ত্রনালয়

ওমানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমানের বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ জন্য বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

ওমান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হলে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি করার প্রস্তাব দেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ওমানের বাজারে কী ধরনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর। বিশেষ করে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, পণ্যের মানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করা রপ্তানি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি ওমানকে আঞ্চলিক রপ্তানি ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত দেশটির সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।

এসব অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগ ব্যয়, পরিবহন সুবিধা, স্থানীয় বিধিবিধান এবং সম্ভাব্য বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করতে হবে।

দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে অনলাইনে বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশির অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিদ্যমান এই জনসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ