ঢাকা,  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, কার্তিক ১০ ১৪৩৩

তদন্তের নামে আতঙ্ক নয়, ডিএসইকে বিএসইসির নির্দেশ

ঢালাও চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ বন্ধের পরামর্শ; কারসাজির তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও কার্যকর ফলাফল চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা

পুঁজিবাজার

ডিএসজে প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৮,২৫ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:৫৬,২৫ অক্টোবর ২০২৬

তদন্তের নামে আতঙ্ক নয়, ডিএসইকে বিএসইসির নির্দেশ

ডিএসজে কোলাজ

শেয়ারবাজারে কারসাজি শনাক্তের নামে ঢালাও তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না। তদন্তের আগে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু তদন্তের জন্য তদন্ত না করে কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এমন নির্দেশনা দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ডিএসইর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বৈঠকে ডিএসইর বিদ্যমান নজরদারিব্যবস্থা, তদন্তের কার্যকারিতা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযাচিত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার নাফিজ তারিক, নির্বাহী পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার ও পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্ত করতে গিয়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই। এসব চিঠিতে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ও পোর্টফোলিওর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। বিষয়টি বাজারে ছড়িয়ে পড়লে অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কিত হয়ে লেনদেন থেকে সরে যান। এতে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।

এ পরিস্থিতিতে ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদনের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। বৈঠকে তিনি বলেন, বাজারে কারসাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ডিএসইর অনেক তদন্ত প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ থাকে না। ফলে এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, নজরদারিব্যবস্থায় কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে প্রথমে ডিএসইকে নিজস্ব তথ্যভান্ডার থেকে তা যাচাই করতে হবে। শুধু শেয়ারের দাম বা লেনদেন বাড়লেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে গণহারে চিঠি পাঠানো যাবে না।

প্রাথমিকভাবে লেনদেনের ধরন, বিনিয়োগকারীর শেয়ার কেনাবেচার উদ্দেশ্য, মুনাফা অর্জন এবং সম্ভাব্য কারসাজির যোগসূত্র বিশ্লেষণ করতে হবে। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

বৈঠকের বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ঢাকা স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘বর্তমান কমিশন মনে করে, তদন্ত হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, যৌক্তিক ও ফলাফলভিত্তিক। শুধু তদন্তের জন্য তদন্ত করে লাভ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনে কারসাজির অভিযোগ থাকলেও যথাযথ প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। এতে তদন্তের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিদ্যমান নজরদারিব্যবস্থায় কোনো সতর্কসংকেত দেখা দিলেই চিঠি পাঠানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অথচ সব সতর্কসংকেত কারসাজির প্রমাণ নয়। কোন লেনদেন স্বাভাবিক আর কোনটিতে অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে, তা যাচাই করা জরুরি।

মিনহাজ মান্নান বলেন, ‘বিএসইসির নির্দেশনা হচ্ছে, ঢালাও চিঠি দিয়ে বাজারে ভীতি তৈরি করা যাবে না। আগে নিজস্ব ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই করতে হবে। সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলে পরবর্তী তদন্তে যেতে হবে।’

তিনি আরও জানান, তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে বিএসইসির উদ্বেগের সঙ্গে ডিএসইর নেতৃত্বও একমত হয়েছে। ভবিষ্যতে নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় আরও সতর্ক থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কারসাজি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। তবে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হলে একদিকে প্রকৃত কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক থেকে রক্ষা পাবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।