প্রতীকী ছবি (এআই দ্বারা তৈরী)
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বাজারে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তুরস্কে পোশাক রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতের বাজারে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রবৃদ্ধি ছিল সামান্য। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। অপ্রচলিত পাঁচ বড় বাজারে মোট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে তুরস্ক থেকে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের। অর্থাৎ পাঁচ বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তুরস্ক। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বাজারে সম্মিলিত রপ্তানি বৃদ্ধির ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশই এসেছে তুরস্ক থেকে। দেশটিকে বাদ দিলে বাকি চার বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে অপ্রচলিত বাজারে সামগ্রিক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধি প্রধানত একটি বাজারে কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতে পোশাক রপ্তানির চিত্র উল্টো। জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২১ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ রপ্তানি কমেছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার বা ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে।
তবে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ বিবেচনায় অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান এখনো শীর্ষে রয়েছে। প্রথম তিন মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশই এসেছে জাপান থেকে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক। দেশটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের সব অপ্রচলিত বাজারে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৬৫ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ বাজারের অবদান ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের একক মাসের পরিসংখ্যানেও তুরস্কের বাজারে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। ওই মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি।
একই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ভারতে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ ও অস্ট্রেলিয়ায় শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে।
সেপ্টেম্বরে পাঁচটি প্রধান অপ্রচলিত বাজারে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মাসটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বাজার সম্প্রসারণে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে ভারতের বাজারে রপ্তানি হ্রাস এবং জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সীমিত প্রবৃদ্ধি নতুন বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির অসম চিত্র তুলে ধরছে। তুরস্কের প্রবৃদ্ধি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ধারণে পরবর্তী মাসগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।















